মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০১৯

সচিব

মোঃ সেলিম রেজা

 

জনাব মোঃ সেলিম রেজা ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে যোগদান করেছেন। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৭ম (১৯৮৫) ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন এবং তৎপরবর্তীতে নেজারত অব ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) হিসেবে রংপুর জেলা প্রশাসনে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিনিয়র অ্যাসাইনমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। তিনি কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম সচিব (শ্রম) হিসেবে ৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং অভিবাসীদের কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উন্নয়নে ব্যাপক সম্পৃক্ততা লাভ করেন ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকল্পে অবদান রাখেন।

দেশে ফিরে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন এবং ২০০৯ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর পরিচালক পদে যোগদান করেন। অতঃপর তিনি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পান এবং একই দপ্তরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে কাজ করেন। জনাব রেজা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্মসচিব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য উইংএ এবং অতিরিক্ত সচিব পদে প্রশাসন উইং এ কাজ করেন। তিনি বহির্বিশ্বে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে এবং দক্ষতার সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বিষয়ে অবদান রাখেন। তিনি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহায়তা বিষয়ে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর কর্মজীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অভিবাসন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উন্নয়নে বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন; যার মধ্যে রয়েছে গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (জিএফএমডি), কলম্বো প্রসেস, আবুধাবি ডায়ালগ (এডিডি) ইত্যাদি। তিনি বাংলাদেশি জনশক্তি প্রেরণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরে গুরুত্বপূর্ণ পদে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে কৌশলগত ঐক্য গড়ে তুলতে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর প্রধান উদ্যোগ ছিল অভিবাসীদের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ প্রেক্ষিতে তিনি অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষা নীতি, পরিকল্পনা ও দক্ষতার উপর পেশাদারিত্ব অর্জন করেন। সুশৃঙ্খল, মানবিক, নিয়মিত ও নৈতিক অভিবাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর অবদান সবিশেষ প্রশংসিত হয়েছে।

জনাব রেজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতক ও ¯স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন এবং নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে গভর্নেন্স স্টাডিতে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেন। তিনি দেশ ও বিদেশের অনেক পেশাগত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। তিনি জার্মানীর University of Potsdam থেকে Governance, Project Management, Monitoring system and Negotiation ” এবং United Kingdom (UK) এর University of Wolverharnpton থেকে MATT2 কোর্স সম্পন্ন করেন। তাঁর পেশাগত দক্ষতা সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে Sussex University, UK থেকে Migration under ‘Temporary Movement of Natural Person (TMNP)’ এবং Asian Institute of Technology থেকে Public Administration Reforms, Performance management and service delivery এবং আমেরিকা’র Duke University থেকে ‘উন্নত প্রশাসন ব্যবস্থাপনা’ এর ওপর কোর্সে অংশ গ্রহণ করেন।

তিনি পেশাগত জীবনের বেশীরভাগ সময় “দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান” এবং “আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের” সাথে কাজ করেছেন। জনাব মো: সেলিম রেজা’র উদ্যোগে গৃহীত সেবা সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিকেন্দ্রীকরণ এবং ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমে তৃণমূল পর্যায়ে অভিবাসী কর্মীরা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছেন এবং এ সকল উদ্যোগ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা পরিমন্ডলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে; যার মধ্যে অভিবাসী কর্মীদের জন্য রেজিষ্ট্রেশন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান, এনওসি, স্মার্টকার্ড, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ ও হাউজকিপিং প্রশিক্ষণ। এ ছাড়া অনলাইন ভিসা পরীক্ষা, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তাঁর বলিষ্ঠ উদ্যোগে জাতীয় উন্নয়ন মেলা, উদ্ভাবনী এবং ডিজিটাল মেলায় বিএমইটি’র জেলা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে পুরষ্কার অর্জন করে। তিনি অভিবাসী কর্মীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর অবদানের জন্য ‘সোনার মানুষ’ পুরষ্কার লাভ করেন।

অভিবাসন এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণ সেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানতম উদ্যোগসমূহের মধ্যে রয়েছে: ১) গৃহকর্মী হিসেবে মহিলা কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ প্রদান, ২) অনলাইন ভর্তি এবং সনদায়ন, ৩) ই-লার্নিং প্লাটফর্ম চালু করা, ৪) প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে রিয়েলটাইম মনিটরিং, ৫) পিপিপি-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় এবং বিদেশী নিয়োগকর্তা বিশেষ করে সৌদিআরব ও হংকং-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ প্রদান, ৬) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষকদের জন্য দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং একটি প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ৭) উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিশেষত: স্টেপ (STEP), সেইপ (SEIP), বি-সেপ (B-SEP) ও স্কিলস-২১ (SKILLS-21) প্রকল্পের সাথে কার্যকর সম্পৃক্ততা এবং ৮) সিটি এন্ড গিল্ডস এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সনদায়নভিত্তিক কোর্স চালু করা।

তিনি বিভিন্ন আইন ও সরকারি নীতিমালা প্রণয়নে প্রেরণকারী ও গন্তব্য উভয় দেশে তাদের অধিকার ও সুবিধার বিষয়ে বলিষ্ঠ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা ও সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সেমিনার, দ্বিপক্ষীয় সভা, যৌথ কমিটির সভা, স্টাডিট্যুর ও শ্রম বাজার অনুসন্ধানের জন্য বেশ কিছু দেশ ভ্রমণ করেন, যথা:- কুয়েত, সৌদিআরব, কাতার, ওমান, বাহরাইন, ইউএই, মিসর, তিউনিসিয়া, কঙ্গো, ভারত, মালযেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, হংকং, ম্যাকাউ, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ইতালি, ভ্যাটিকান সিটি, পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, তুরস্ক, জাপান, সিসেলস, জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র।

তিনি পাবনা জেলায় ১৯৬১ সালে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিবাহিত ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। জ্যেষ্ঠ পুত্র বিমানে পাইলট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছেন এবং কনিষ্ঠ পুত্র এ-লেভেলে অধ্যয়ন করছেন। তাঁর স্ত্রী মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষকের পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডে এবং রাস্তা, মসজিদ ও মাদ্রাসা উন্নয়নে নিজেকে জড়িত রেখেছেন। তিনি ঢাকাস্থ পাবনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বিসিএস ৮৫ ফোরাম ও অফিসার্স ক্লাব, ঢাকার নির্বাহী কমিটির সদস্য। তাঁর প্রতিষ্ঠিত “রওশন আরা সাত্তার চক্ষু হাসপাতাল” এবং আন্তর্জাতিক মানের “আবু আইয়ুব আনসারী মসজিদ” মানুষের কল্যাণে সেবা দান করে যাচ্ছে। তিনি “উমর ইবনে খাত্তাব ক্যাডেট মাদ্রাসা” স্থাপন করেছেন এবং নিজে পরিচালনা করছেন।

ই-মেইল: secretary@probashi.gov.bd

 



Share with :

Facebook Facebook